৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, শুক্রবার,রাত ৮:৩৭

গরমে স্বস্তি দেবে তরমুজ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০১৯

  • শেয়ার করুন

তরমুজ একটি মৌসুমি ফল। প্রচুর পানি সমৃদ্ধ হওয়ায় গরমের মধ্যে তরমুজ খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। সরাসরি কিংবা জুস যে হিসেবেই খান না কেন তরমুজ আপনার শরীরকে গরমে রাখবে সুস্থ এবং চাঙ্গা। গরমে শরীরকে আরাম দিলেও তরমুজের পুষ্টিগুণও অনেক। ‘দ্য আমেরিকান জার্নাল অব হাইপারটেশন’ এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, তরমুজ কিডনি, হৃদরোগসহ শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রোগ সারায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তরমুজ শরীরের কী কী উপকারে আসে।

কিডনির উপকারে :

তরমুজ কিডনিকে সবল করে তুলতে পারে। এটি কিডনিকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। মানুষের শরীরে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত টক্সিন প্রবেশ করে প্রতিদিন। খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ দূষণ থেকে এই টক্সিন শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি সাধন করে। শরীর থেকে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো বের করতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনিমূলত মানুষের দেহের ছাকনি হিসেবে কাজ করে। কিডনি ইউরিনের মাধ্যমে শরীর থেকে এইসব বিষাক্ত টক্সিনগুলোকে বের করে দেয়। আর কিডনি সুস্থ রাখতে তরমুজ বিরাট ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তরমুজে থাকা পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। কিডনিকে আরও সবল এবং কর্মক্ষম করে তুলতে প্রতিদিন সকালে তরমুজ খেতে পারেন।

আরো সংশ্লিষ্ঠ সংবাদঃ  মহানগরে সাড়ে তিন হাজারের অধিক কর্মহীন নির্মাণ শ্রমিকদের মাঝে সিটি মেয়রের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস :

তরমুজের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে এর কোনো জুড়ি নেই। বিশেষ করে তরমুজে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের মধ্যে থাকা মুক্ত র‍্যাডিক্যালসগুলোকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে মানবদেহের মধ্যে ক্যানসার বিরোধী কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তরমুজের রং লাল হবার পেছনেও রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভূমিকা। তরমুজে থাকে লাইকোপেন নামক একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা তরমুজ লাল হবার কারণ। লাইকোপেন এবং ভিটামিন সি মিলে একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। মুক্ত র‍্যাডিক্যালসকে অতিরিক্ত ইলেকট্রন দেয়া থেকে আটকায়। এতে শরীরের কোষ আক্রমণের হাত থেকে বেঁচে যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে:

ডায়াবেটিস রোগ পৃথিবীতে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বলা হয়ে থাকে ডায়াবেটিস রোগ কখনোই পুরোপুরি সারে না। তবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তরমুজ বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। তরমুজে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড এল সাইট্রুলিন কিডনিতে গিয়ে অন্য একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড এল আরজিনাইনে পরিবর্তিত হয়। অ্যামাইনো অ্যাসিডের এই রূপান্তর কিডনিকে সুরক্ষা দেওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে বহুগুণ। আর যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তরমুজ শরীরের শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আরো সংশ্লিষ্ঠ সংবাদঃ  সাতক্ষীরার আলো’র সম্পাদক সাংবাদিক নজরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

শক্তি জোগায় :

দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম করলে মাংস পেশিতে ল্যাকটিক এসিড জমে যায়। দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করার পর এক গ্লাস তরমুজের জুস পান করলে জমে থাকা এই ল্যাকটিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায় দ্রুত। ফলে শরীরে মুহূর্তেই ফিরে আসে ক্ষয়ে যাওয়া শক্তি। ক্লান্তিভাব কাটানোর পাশাপাশি এটি শরীরে জোগান দেয় পর্যাপ্ত পানিরও। বাইরে থেকে ফিরে এসে কয়েকটুকরা তরমুজ খেলে শরীরে পানির অভাববোধ হয় না। ফলে গরমেও বেঁচে থাকা যায় ডি-হাইড্রেশনের হাত থেকে।

শ্বাসকষ্ট লাঘবে :

তরমুজে থাকা ভিটামিন ‘সি’- এর পরিমাণ অনেক বেশিই। ভিটামিন সি শ্বাসকষ্টের হাত থেকে অনেক বেশি বাঁচিয়ে রাখে। শ্বাসকষ্ট, বুক জ্বলাপোড়ার থেকেও সুরক্ষা দেয় তরমুজ। যারা অ্যাজমায় আক্রান্ত তাদের গরমে নিয়মিত তরমুজ খাওয়া উচিত। তবে ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা তরমুজ না খাওয়াই ভালো। আর তরমুজ খেয়ে পানি পান করলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য করুন
  • শেয়ার করুন
ফেসবুকে সাতক্ষীরার আলো
সাতক্ষীরার আলো