৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, শুক্রবার,সন্ধ্যা ৭:৫১

প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত-পাকিস্তান থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২০

  • শেয়ার করুন

রফতানির গতি কমে আসায় চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছর শেষে নাগাদ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনীতির পূভাবাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এতে বাংলাদেশ বিষয়ে বলা হয়েছে, আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ অঞ্চলে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মূলত রফতানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধিও অনেক বেশি হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরুতে রফতানি আগের চেয়ে কমেছে।

উল্লেখ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাড়ে ১০ শতাংশ পণ্য রফতানি বেড়েছিল। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ছয় মাসের হিসাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্তক হয়ে গেছে। অর্থাৎ রফতানি হলেও আগের বছরের তুলনায় সেটি বৃদ্ধি পায়নি।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, গতবছর চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের জেরে তুলনামূলক রফতানি সুবিধা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাই সেসময় রফতানি বেড়েছিল তুলনামূলক বেশি। সংস্থাটি বলছে, ৭ শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থা নির্দেশ করে। মূলত শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলেই এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

আরো সংশ্লিষ্ঠ সংবাদঃ  পাটকেলঘাটার একই রাতে দু’বাড়ীতে দূর্ধর্ষ ডাকাতি : সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উৎপাদনশীলতা যে হারে বাড়ছিল, সাম্প্রতিক সময়কালে সেটি কমে গেছে। ২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এটা পরবর্তীতে কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা বিশ্বেই উৎপাদনশীলতার গতি কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে যদি স্বাভাবিক গতিতে বিশ্ব এগুতে থাকে তাহলে অর্থনীতির অবস্থার উন্নতি হবে। তবে বিশ্বব্যাপী ঋণ বেড়ে যাওয়া, উৎপাদনশীলতার গতি কমে যওয়া নীতি নির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যে উত্তেজনা সেটির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে পড়বে। বিশেষ করে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। ইরান ছাড়াও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিরিয়া, ইয়েমেনসহ অনেক দেশের অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থনীতিতে কোন ঝুঁকি তৈরি না হলে এবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আগের অক্টোবরের প্রতিবেদনে ২ দশমিক ৪ শতাংশের প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে এবছর কিছুটা হলেও বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার আশা করা হচ্ছে। উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবছর। বিশ্বের ৫৬ ভাগ দরিদ্র্য মানুষের আবাস সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি নিম্নমূখি হবার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আরো সংশ্লিষ্ঠ সংবাদঃ  তালায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয় মুজিব বর্ষ নিয়ে তারুণ্য ভাবনা শীর্ষক সংলাপ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়লা পাজারবাজিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির গতি ধীর হয়েছে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করতে সহায়তা করবে।

মন্তব্য করুন
  • শেয়ার করুন
ফেসবুকে সাতক্ষীরার আলো
সাতক্ষীরার আলো